এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, মানুষ যখন কোন বিপদের সম্মুখীন হয় তখন সম্পূর্ণরূপে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে তখন সে লম্বা চওড়া দুআ করতে শুরু করে।” (৪১:৫১) পূর্ববর্তী আয়াত এবং এই আয়াতের অর্থ একই। কেননা, যখন তার উপর বিপদ পৌছে তখন সে ব্যাকুল ও অধৈর্য হয়ে পড়ে । উঠতে, বসতে, শুইতে, জাগতে সর্বাবস্থাতেই বিপদের বৃষ্টি দূর হওয়ার জন্যে প্রার্থনা করতে শুরু করে। অতঃপর যখন আল্লাহ পাক সেই বিপদ সরিয়ে দেন তখন সে আল্লাহকে এড়িয়ে চলে এবং পরামুখ হয়ে যায়। তার ভাব দেখে মনে হয় যে, তার উপর ইতিপূর্বে কোন বিপদই পৌছেনি। মহান আল্লাহ এই অভ্যাসের নিন্দে করে বলেন- এরূপ ব্যবহার তো পাপী ও বদকারদের জন্যেই শোভা পায়। আল্লাহ তা'আলা যাকে হিদায়াত ও তাওফীক দান করেন সে এর থেকে স্বতন্ত্র। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উক্তি রয়েছেঃ “মুমিনের কাজ। কারবার তো খুবই বিস্ময়কর। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে তার উপর যা কিছু এসে পড়ে তা তার জন্যে কল্যাণকরই হয়ে থাকে। যদি তার উপর কোন বিপদ আপদ পৌঁছে এবং তাতে সে ধৈর্যধারণ করে তবে সে তার প্রতিদান লাভ করে থাকে। আর যদি সুখ শান্তি প্রাপ্ত হয় এবং তাতে সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তবে তাতেও পুণ্য লাভ করে। আল্লাহর এই দয়া ও করুণা শুধু মুমিনের জন্যেই বিশিষ্ট, আর কারো জন্যে নয়।
- 10:1212
وَإِذَا مَسَّ الْإِنْسَانَ الضُّرُّ دَعَانَا لِجَنْبِهِ أَوْ قَاعِدًا أَوْ قَائِمًا فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُ ضُرَّهُ مَرَّ كَأَنْ لَمْ يَدْعُنَا إِلَىٰ ضُرٍّ مَسَّهُ ۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلْمُسْرِفِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোন কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে।
- common.revelation-Meccan
- common.hizb : 84